Close
Optional callout text
Hello World!

নাফিসাকে তামিম ইকবালের কল!

মহামারীতে যাদের খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন, তারাই কল দেওয়ার কথা। কিন্তু তামিম ইকবালের কল পেয়ে স্বভাবতই চমকে উঠেছিলেন নাফিসা আনজুম খান। ঢাকার এই সমাজকর্মী করোনাভাইরাসে বিপাকে পড়া মানুষদের বিনামূল্যে পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার।

সাহসী এই নারী ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বের হন ঘর থেকে। নিজের হাতে পৌঁছে দেন সহায়তা। ‘একজন বাংলাদেশ’ নামে নিজের গড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিয়ে যেন যোদ্ধার ভূমিকায় এই তরুণী। সাহায্যপ্রার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যান নিজের সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে।

২২ এপ্রিল বিকালে সহায়তা পৌঁছে দিতে খাবার নিয়ে যাত্রাবাড়ী যাচ্ছিলেন নাফিসা। এমন সময় তাকে কল করেন তামিম। জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়কের কল পেয়ে চমকে যান নাফিসা। তামিম জানান, নাফিসার এই উদ্যোগে শরীক হতে চান তিনি। তাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন।

নাফিসার কার্যক্রমের আদ্যোপান্ত জেনে তামিম জানতে চান- নাফিসা এমন কাজের জন্য অনুদান নিচ্ছেন কি না। নাফিসা কারও কাছ থেকে আর্থিক অনুদান না নিয়ে সরাসরি খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করেন, যা তুলে দেন অসহায়দের হাতে। লকডাউনে ঘরে আটকে পড়া তামিম নাফিসার কার্যক্রমে যুক্ত হলে নাফিসা তামিমের ‘উপহার’ সম্বলিত স্টিকার দিয়ে এয়ারপোর্ট এলাকায় পৌঁছে দেন সহায়তা।

প্রচারবিমুখ তামিমের গল্প শোনান নাফিসা নিজেই। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই দেখে আসছি তামিম করোনা সংকটে মানুষের পাশে আসেন। আমি তার সাথে দেখা করতে চাই। নিয়মিত তিনি আমার কাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন। মানুষকে যখন উপহার তুলে দিয়েছি, অনেকেই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছেন- সত্যি ক্রিকেটার তামিম ইকবাল দিয়েছেন? আমি তামিম ভাইয়াকে নিয়ে একটা পোস্ট করি। সেটা তার ফেসবুক ফ্যান পেইজে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

তখন তিনি বললেন- আপু, আমি মানুষকে দিচ্ছি এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানুক। আপনি আমাকে নিয়ে পোস্ট করেছেন, এটা আমার ফ্যান পেইজে সংযুক্ত করতে চাচ্ছি না। আপনার নিজের ছবি দিয়ে কোনো পোস্ট থাকলে আপনার কার্যক্রমে সহায়তা হবে, এমন কোনো পোস্ট থাকলে সেটা আমি শেয়ার করে দিব। আমি এমন কথা শুনে খুবই অবাক হয়েছি। এমন মানুষও আছে!’

তামিমের মত অনেকেই চাল-ডাল-নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে এই কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন। এদের কেউ বেলুন বিক্রেতা, কেউ চাকুরীজীবী, কেউ গার্মেন্টসকর্মী, কেউ ড্রাইভার, একজন আবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা অসহায়দের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে চলেছেন নিরলসভাবে। তাদের এই কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া তো তামিমেরই মানায়!

scroll to top