Close
Optional callout text
Hello World!

প্রধানমন্ত্রী হবিগঞ্জকে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ মনে করেন – জাহাঙ্গীর কবির নানক

Jahangir Kabir Nanak

ফেরদৌস আহমদঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হবিগঞ্জকে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ মনে করেন। এজন্যই অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে এখানে। তবে জেলা সদরের পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র না থাকায় উন্নয়ন বঞ্চিত হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান সেলিমকে নৌকা দিয়ে আপনাকের কাছে পাঠিয়েছেন। নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন। উন্নয়নের দায়িত্ব নেবেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বর্তমান মেয়র মিজান বিদ্রোহী নয়; বেয়াদব এবং বিশ্বাসঘাতক। যে লোক জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বেয়াদবী এবং বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে, সে আপনাদের সাথে যে কোন মুহুর্তেই বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। এই বেয়াদবকে শিক্ষা দিতে আগামী ২৮ তারিখ নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।

গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিমের সমর্থনে পাঁচটি পৃথক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

নানক বলেন, হবিগঞ্জ পৌরসভায় নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আটজন। মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলে উঠলেন ‘আতাউর রহমান সেলিম ত্যাগী নেতা, হবিগঞ্জে তাকেই নৌকা দিতে হবে’। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে হবিগঞ্জে আতাউর রহমান সেলিম নৌকার কান্ডারী। তাকে নির্বাচিত করলে হবিগঞ্জ পৌরবাসীকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। উন্নয়ন করবেন শেখ হাসিনা নিজে।

তিনি আরও বলেছেন, ভোট মানুষের পবিত্র আমানত। খেয়াল রাখবেন এ আমানতের যেন খেয়ানত না হয়। আপনাদের ভোটই আগামী পাঁচটি বছরের জন্য হবিগঞ্জ পৌরসভার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। এ সময় তিনি তাঁর কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আতাউর রহমান সেলিমের হয়ে হবিগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়ন করবেন বলেও কথা দেন। একই সঙ্গে সেলিম নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি হবিগঞ্জবাসীকে নিয়ে জনসভার মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র হাত ধরে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। সেই উন্নয়ন থেকে বাদ যায়নি হবিগঞ্জ জেলা। হবিগঞ্জে শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে অভাবনীয় পরিমাণ। উন্নয়নের আওতায় এসেছে মসজিদ, মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আওয়ামী লীগের মেয়র না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে হবিগঞ্জ পৌরসভা। খবর পেয়েছি জলাবদ্ধতা হবিগঞ্জ পৌরবাসীর অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে প্রতি মুহুর্তে। শহরে হাঠতে হচ্ছে নাকে রুমাল দিয়ে। সেই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য শেখ হাসিনার প্রতিনিধি দরকার। আতাউর রহমান সেলিমের বিজয় মানে শেখ হাসিনার হাতে উন্নয়নের দায়িত্ব তুলে দেয়া। সেলিমকে ভোট দিলে তাঁর হাত ধরেই হবিগঞ্জ পৌরসভায় উন্নয়নের নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

আতাউর রহমান সেলিম হাজার হাজার মানুষের এই সভাগুলোতে নিজে কাঁদলেন এবং মানুষকে কাঁদালেন। হবিগঞ্জ পৌরবাসী দেখল এক বিনয়ী সেলিমকে। অতীতের ত্যাগ-তীতিক্ষা তুলে ধরে এবং অজান্তে কোন ভূল হয়ে থাকলে সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন সকলের কাছে। সেলিম বলেন, একটি বারের জন্য ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুণ। প্রয়োজনে শরীরের সব রক্ত দেব আপনাদের জন্য। পৌরবাসীর জন্য কাজ করব জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত।

পাঁচটি পৃথক সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ আজাদ ডন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শহিদ উদ্দিন চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাচ্ছিরুল ইসলাম।

জাহাঙ্গীর কবির নানক

এক নম্বর ওয়ার্ডের উমেদনগরবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন নিম্বর মিয়া। উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর রেজা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহী, কবির মিয়া, ইউনুছ মিয়া, আব্দুল হান্নান, সজলু খান, কদ্দুস মিয়া, হাজী সজিব আলী, কমরু খান, আব্দুল হান্নান প্রমুখ।

দুই ও তিন নম্বর ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে চৌধুরী বাজারের নারিকেল হাটার সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু। পরিচালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাচ্ছিরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, বোরহান উদ্দিন চৌধুরী, মোস্তফা কামাল আজাদ রাসেল, আব্দুর রকিব রনি, ফয়জুর রহমান রবিন।

সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও নূর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল এবং ফরহাদ হোসেন কলির যৌথ পরিচালনায় চার নম্বর ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে নাতিরাবাদ খেলার মাঠে বক্তব্য রাখেন জর্মান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক কামিশনার সামছু মিয়া, আব্দুল খালেক টেনু, শেখ হান্নান, মুগল মিয়া, নিতেন্দ্র সূত্রধর প্রমুখ।

আট ও নয় নম্বর ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে শায়েস্তানগর তেমুনিয়া বাজারে সভায় সভাপতিত্ব করেন শায়েস্তানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শহিদুর রহমান লাল। বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবুল ফজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান, চুনারুঘাট পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র সাইফুল আলম রুবেল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা এসএম মিছির আলী, সৈয়দা সানজিদা মহসিন, অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ, মোস্তফা কামাল আজাদ রাসেল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ।

হবিগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে পৌর বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মটর মালিক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ্ব ফজলুর রহমান চৌধুরী। জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সজিব আলীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শঙ্খ শুভ্র রায়, হাজী জিতু মিয়া, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজ উদ্দিন খান, ট্রাক ও ট্যাংক লড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আওলাদ মিয়া, আজিজুর রহমান, দিয়ারিছ মিয়া, সাইদুর রহমান প্রমুখ।

scroll to top