Newsletter Subscribe
Enter your email address below and subscribe to our newsletter
Enter your email address below and subscribe to our newsletter

হবিগঞ্জ জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করেও প্রায় ২০০ সাংবাদিক নির্বাচনী কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের ৯টি উপজেলা ও সদর মিলিয়ে প্রায় ৫০০-এর বেশি সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে মাত্র ২৬৯ জনকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়েছেন ২৩১ জন সাংবাদিক। অভিযোগ রয়েছে, এদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে কোনো বিধিসম্মত বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া তালিকায় রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা। উল্লেখযোগ্য গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে— সমকাল, দৈনিক বাংলা, জনকণ্ঠ, অগ্রযাত্রা প্রতিদিন, কালবেলা, আমাদের সময়, দেশ রূপান্তর, বাংলাদেশ সমাচার, এশিয়ান টেলিভিশন, মাই টিভি, এনপিবিসহ একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যম। পাশাপাশি স্থানীয় পত্রিকা জননী, হবিগঞ্জের বানী, তরফ বার্তা, সময়সহ বিভিন্ন মাধ্যমের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা দলবদ্ধভাবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মঈনুল হকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং দায়সারা মনোভাব প্রদর্শন করেন।সেই সাথে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দিতে পরিকল্পিতভাবে প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা থাকতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এমনকি ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে।
দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর মাধবপুর প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন লস্কর বলেন,“সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাকে ও আমাদের পত্রিকার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এখানে স্পষ্ট বৈষম্য করা হচ্ছে।”
দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর প্রতিনিধি ফোরকান উদ্দিন রোমান বলেন,
“ইদানীং জেলা প্রশাসনের আচরণ নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের চর্চা মনে হচ্ছে।এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না এতে কোন সন্দেহ নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে অপমানজনক ব্যবহার করা হচ্ছে।”
সাংবাদিকদের আরও অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভুঁইফোড় ও অনলাইনভিত্তিক ভুয়া পত্রিকার প্রতিনিধিরা কার্ড পেলেও দীর্ঘদিনের পেশাদার সাংবাদিকরা বঞ্চিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কার্ড না পাওয়ায় তারা হতবাক।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মঈনুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন,
“আবেদন অসম্পূর্ণ থাকায় কিছু আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কারও অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানাতে পারেন।”
ভুয়া পত্রিকা ও ফেসবুক পেজের প্রতিনিধিদের কেন অনুমতি দেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আবারও লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রসঙ্গত, ওই রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও বিধিবহির্ভূতভাবে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের অভিযোগ ওঠে।এতে তার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনাও হয়। কেউ কেউ তার পদত্যাগ দাবিও করেন। এবি পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাজন ও সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থিতা বাতিলের পর আপিলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে।