Newsletter Subscribe
Enter your email address below and subscribe to our newsletter
Enter your email address below and subscribe to our newsletter

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের নায়েব আলী এক ব্যতিক্রমধর্মী জীবনচিত্রের নাম। পেশায় তিনি একজন মোটর মেকানিক। প্রায় দুই দশক ধরে মনতলার তেমুনিয়া এলাকায় মোটর মেকানিক্যাল কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
কঠোর পরিশ্রমের এই জীবনের মাঝেই নায়েব আলীর আরেকটি পরিচয় রয়েছে—তিনি একজন দক্ষ হারমোনিয়াম বাদক। কাজের ফাঁকে কিংবা রাতে নিজের দোকানেই বসে হারমোনিয়ামে গান বাজাতে দেখা যায় তাকে। নায়েব আলী বলেন,“কর্মের মধ্যেই আমার জীবন। দিনে মোটরের কাজ করি, রাতে গান-বাজনা করি। এভাবেই জীবনের শান্তি খুঁজে পাই।”
ধর্ম ও সংস্কৃতি—দুটোর প্রতিই তার সমান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এই বৈচিত্র্যের প্রতিফলন দেখা যায় তার পরিবারেই। নায়েব আলীর এক কন্যা সানিয়া আক্তার (১৫) একজন জনপ্রিয় বাউল শিল্পী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে তার ছেলে হাফেজ আল আমিন একজন আলেম; বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে প্রবাসে রয়েছেন।
একই পরিবারের একজন সন্তান বাউল গান আর অন্যজন কোরআনের হাফেজ—বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
নায়েব আলীর কন্যা বাউল শিল্পী সানিয়া আক্তার বলেন,
“আমার বাবা অনেক কষ্ট করে আমাকে মানুষ করেছেন। তিনিই আমাকে সংগীত শিখিয়েছেন। এখন আমার জনপ্রিয়তা কম নয়। আমার কারণে পরিবারকে অনেক কথা শুনতে হয়। আমার বাবা আমার জন্য যা করেছেন, সেই ঋণ কোনোদিন শোধ হবার নয়। আমি গান গাই, গান আমার ভালো লাগে—এটা কোনো খারাপ কিছু নয়।”
ছেলে হাফেজ আল আমিন বলেন,
“আমাকে হাফেজি শিখিয়েছেন আমার পিতা। আজ আমি মধ্যপ্রাচ্যে সম্মানের সঙ্গে কাজ করছি। আমার পিতা আমার কাছে একজন আদর্শ মানুষ।”
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া বলেন,
“নায়েব আলী অত্যন্ত সরল ও পরিশ্রমী মানুষ। তার এক ছেলে হাফেজ, এক মেয়ে বাউল শিল্পী—এটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম একটি ঘটনা। আমার জানামতে তিনি কখনো কারও ক্ষতি করেননি।”
নায়েব আলীর জীবন যেন কর্ম, সংস্কৃতি ও ধর্মের এক অনন্য সহাবস্থানের গল্প—যা গ্রামবাংলার সামাজিক বৈচিত্র্যকে নতুন করে তুলে ধরে।