Enter your email address below and subscribe to our newsletter

নবীগঞ্জে অশান্ত পরিস্থিতি, দুই জনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু, বাড়তি নিরাপত্তা

Share your love

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে রক্তাক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আনমনু, পূর্ব তিমিরপুর, পশ্চিম তিমিরপুর ও চরগাঁও গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ জড়িত হয়ে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ২ জন নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন—পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের অ্যাম্বুলেন্স চালক ফারুক মিয়া এবং আনমনু গ্রামের রিমন মিয়া (২৫)। রিমন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সংঘর্ষের সময় নবীগঞ্জ শহরের গাজীরটেক, মৎস্যজীবী পাড়া, চরগাঁও ও পশ্চিম বাজার এলাকায় ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। বাজারে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অন্তত ৫০টি দোকান ও একাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। অনেক দোকানে লুটপাট চালানো হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জ এলাকার আশাহিদ আলী আশার সঙ্গে তিমিরপুরের খসরু মিয়া তালুকদারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। উভয় পক্ষ আগে থেকেই উত্তেজনায় ছিল এবং সোমবার বিকেলে ঘোষিত সভার পর সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু তা উপেক্ষা করে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এ সময় নবীগঞ্জে যান স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া, বিএনপি নেতা সরফরাজ আহমদ চৌধুরী, জামায়াত-সমর্থিত নেতা মো. শাহজাহান আলী, গণঅধিকার পরিষদের আবুল হোসেন জীবনসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ স্থানীয়ভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানে এগিয়ে আসেন।

জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী জনাব মো. শাহজাহান আলী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তিনি স্থানীয় জনগণকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. কামরুজ্জামান জানান, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তবে এলাকা থমথমে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহলে রয়েছে।”
ইউএনও রুহুল আমীন বলেন, “১৪৪ ধারা জারি করা হলেও দুই হাজারের বেশি মানুষ উত্তেজিত অবস্থায় ছিল। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।”

এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানা গেছে, তবে প্রশাসন বলছে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share your love
মোহাম্মদ সিজিল মিয়া
মোহাম্মদ সিজিল মিয়া
Articles: 126

Stay informed and not overwhelmed, subscribe now!