Newsletter Subscribe
Enter your email address below and subscribe to our newsletter
Enter your email address below and subscribe to our newsletter

পরিবার জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও কাপড়-চোপড় নিয়ে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে বের হয় লাবনী। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাইয়ের ফোন রিসিভ করে সংক্ষিপ্তভাবে জানায়—“মালিক গেইট তালা দিয়ে চলে গেছেন, আমি রাজনগর এলাকায় আছি”—এরপর লাইন কেটে যায়। পরবর্তীতে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তবে তারা শহরের বিভিন্ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টারে খোঁজ নিয়ে কোথাও লাবনীর সন্ধান পাননি।
পরে তার খাতার ভেতর থেকে একটি ৪ পৃষ্ঠার চিরকুট উদ্ধার করেন স্বজনরা। সেখানে লাবনী লিখেছে, ছোটবেলা থেকে কম্পিউটার শেখার ইচ্ছা থাকলেও পরিবার অনুমতি দেবে না ভেবে বলেনি। সে নাকি সরকারি খরচে ৪ মাস মেয়াদি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে এবং এজন্য হবিগঞ্জে গেছে। একইসাথে স্পষ্ট করে লিখেছে—“কোন ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যাইনি, চার মাস পর ফিরে আসব।”
তবে বিষয়টির সত্যতা খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। হবিগঞ্জ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আজহার আলী নিশ্চিত করেছেন—তাদের কেন্দ্রে ৪ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের কোনো কোর্স নেই, কেবল ৩ মাস মেয়াদি কোর্স রয়েছে। আর প্রকাশিত নির্বাচনী তালিকায়ও লাবনীর নাম নেই।
এদিকে লাবনীর খাতায় পাওয়া দুটি অপরিচিত নাম্বারে ফোন করলে অচেনা ব্যক্তিরা উল্টাপাল্টা ব্যবহার করেন। পরিবারের দাবি, প্রতারক চক্র প্রলোভন দেখিয়ে লাবনীকে নিয়ে গেছে এবং সে বিপদে পড়তে পারে।
লাবনী যাওয়ার সময় পরিবারের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকারও নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার সেকেন্ড অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, ৪ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি জিডি হয়েছে।
নবাগত ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “আমি বিষয়টি জেনেছি। পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে মেয়েটিকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শীঘ্রই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে।”
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা মতামত ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন, যেহেতু লাবনী নিজে চিঠি লিখে গেছে, তাই নিখোঁজ ঘটনাটি স্বাভাবিক নয়। সবমিলিয়ে পুরো এলাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।